Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

নেইমার জুনিয়রের জীবনী: উত্থান, পতন ও ২০২৬ বিশ্বকাপে বিদায়

প্রতিবেদক
Louis Daru
জুলাই ১২, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান, সৃজনশীল এবং আলোচিত তারকা নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র। ব্রাজিলের সাধারণ রাস্তা থেকে শুরু করে ইউরোপের বিখ্যাত ক্লাবগুলোর মঞ্চ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার আবেগঘন বিদায়—এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল অসংখ্য অর্জন, রোমাঞ্চ এবং ইনজুরির কারণে হতাশা।

নিচে তার জীবনের জন্ম থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত উত্থান-পতনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

জন্ম ও শৈশব

নেইমার ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের মোগি দাস ক্রুজেস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নেইমার সান্তোস সিনিয়রও একজন সাবেক ফুটবলার ছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে ছেলের মেন্টর এবং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। ফুটসাল এবং স্ট্রিট ফুটবল খেলেই নেইমারের শৈশব কাটে, যা তার অনন্য ড্রিবলিং স্টাইল, ক্ষিপ্রতা এবং খেলার স্কিল তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

সান্তোসে অবিশ্বাস্য উত্থান (২০০৩ – ২০১৩)

২০০৩ সালে নেইমার সান্তোস এফসি-এর যুব একাডেমিতে যোগ দেন।

পেশাদার অভিষেক: ২০০৯ সালের মার্চ মাসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের মূল দলে তার পেশাদার অভিষেক ঘটে।
প্রথম সাফল্য: ২০১১ সালে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে সান্তোস ঐতিহাসিক ‘কোপা লিবার্তাদোরেস’ শিরোপা জয় করে। তার চোখ ধাঁধানো স্কিল এবং গোল করার অসামান্য ক্ষমতা তাকে দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের নজরে নিয়ে আসে।

বার্সেলোনায় ইউরোপ জয় (২০১৩ – ২০১৭)

২০১৩ সালের জুনে স্প্যানিশ জায়ান্ট এফসি বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। এই ট্রান্সফারটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত একটি ঘটনা।

এমএসএন (MSN) ত্রয়ী: লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সাথে মিলে তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ গঠন করেন।
ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়: ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল (উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা এবং কোপা দেল রে) জয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

পিএসজি-তে বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফার ও ইনজুরির লড়াই (২০১৭ – ২০২৩)

২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিশ্ব রেকর্ড মূল্যে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (PSG)-তে যোগ দিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটে ইতিহাস সৃষ্টি করেন নেইমার।

ঘরোয়া আধিপত্য: পিএসজি-র হয়ে তিনি ফরাসি লিগে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন এবং ২০২০ সালে দলকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে যান।
চোটের আঘাত: ফ্রান্সে তার সময়কাল বারবার গোড়ালি ও পেশির মারাত্মক ইনজুরির কারণে ব্যাহত হয়, যার ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তিনি মাঠে নামতে পারেননি।

আল-হিলাল অধ্যায় এবং সান্তোসে প্রত্যাবর্তন (২০২৩ – ২০২৬)

সৌদি আরবে পাড়ি ও হতাশা: ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন। তবে কিছুদিন পরই জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় হাঁটুর মারাত্মক লিগামেন্ট ইনজুরির শিকার হন, যার কারণে তিনি ক্লাবটির হয়ে মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলতে সক্ষম হন।
ঘরে ফেরা: চোট কাটিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ফ্রি-ট্রান্সফারে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। চোটের সাথে নিরন্তর লড়াই করলেও সান্তোসকে শীর্ষ লিগে ধরে রাখতে এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও ২০২৬ বিশ্বকাপে বিদায় (২০১০ – ২০২৬)

ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নেইমারের ক্যারিয়ার ছিল সাফল্য এবং আক্ষেপে ভরপুর।

আন্তর্জাতিক অর্জন: ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ জয় এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে দেশের মাটিতে ব্রাজিলকে প্রথমবার ফুটবলে স্বর্ণপদক এনে দেওয়া ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
বিশ্বকাপ আক্ষেপ ও অবসর: ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর, ২০২৬ সালের আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামেন। ফিটনেস সমস্যার কারণে পুরো টুর্নামেন্টে তিনি খুব কম সময়ই মাঠে নামার সুযোগ পান। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে পেনাল্টি থেকে তিনি একটি গোল করলেও দল ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এবং বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই শেষ। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানেই শেষ হলো।”

ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান

নিচের টেবিলে নেইমারের ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মূল পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

| দল/ক্লাব | সময়কাল | ম্যাচ (Apps) | গোল (Goals) |
| — | — | — | — |
| সান্তোস এফসি | ২০০৯ – ২০১৩ | ১৭৯ | ১০৭ |
| এফসি বার্সেলোনা | ২০১৩ – ২০১৭ | ১২৩ | ৬৮ |
| প্যারিস সেন্ট-জার্মেই | ২০১৭ – ২০২৩ | ১১২ | ৮২ |
| আল-হিলাল | ২০২৩ – ২০২৫ | ৩ | ০ |
| সান্তোস এফসি | ২০২৫ – বর্তমান | ৩৭ | ১৫ |
| ব্রাজিল জাতীয় দল | ২০১০ – ২০২৬ | ১৩০ | ৮০ |

নোট (জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত): ২০২৬ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সময় নেইমার ৮০টি গোল নিয়ে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে যান। বর্তমানে তিনি সান্তোস এফসি-র হয়ে তার ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।