![]()
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা বিরোধিতার মধ্যে দিল্লিতে নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেরালা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনের সামনে অনশন ও ধরণা কর্মসূচিতে বসলে দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে তাঁকেও প্রিজন ভ্যানে করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
- 📍 আটকের স্থান: দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাসভবনের সামনের ধরণা মঞ্চ।
- 👮♂️ আটককৃত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ: তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন।
- ⚠️ অভিযোগের ধরন: বেআইনি জমায়েত ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনশন ধরণা পরিচালনা।
- 🏛️ একই দিনে জোড়া আটক: একই দিনে পিনারাই বিজয়ন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের ঘটনায় উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি।
সাউথ অ্যাভিনিউতে ধরণা ও দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপ
সংবাদমাধ্যম টিভি৯-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শনিবার সকালে সাউথ অ্যাভিনিউতে ধরণা কর্মসূচিতে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে ধরণা তুলে নিতে অনুরোধ করে এবং ওই স্থানে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা জানায়। তবে পুলিশি নির্দেশ উপেক্ষা করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান অব্যাহত রাখলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
গন্তব্য অজানা: প্রিজন ভ্যান নিয়ে ঘোরাচ্ছে পুলিশ
এর আগে সকালে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে আটকের পর কোনো নির্দিষ্ট থানায় না নিয়ে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় সার্কেল করে ঘোরানো হয়। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের প্রিজম ভ্যানে তোলার পর তাঁদের কোন থানায় বা স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
একই দিনে একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ইনফ্লুয়েন্সার আটক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রভিত্তিক এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় মোদি সরকার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই দিনে দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী (পিনারাই বিজয়ন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়), ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং বিশ্বখ্যাত ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটকের ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে ‘গণতন্ত্রের ওপর নজিরবিহীন পুলিশি হামলা’ বলে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে।
দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ ঘটনা ও আটকের সারসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রধান আটক ব্যক্তি | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ ও তৃণমূল প্রধান) |
| সঙ্গে আটক তৃণমূল নেতৃবৃন্দ | ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন এবং তৃণমূলের শীর্ষ সংসদ সদস্যগণ |
| ঘটনার স্থান ও সময় | সাউথ অ্যাভিনিউ, নয়াদিল্লি (শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬) |
| অভিযোগ ও মূল কারণ | বেআইনি জমায়েত ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধরণা |
