![]()
সারা দিন ফোনের নোটিফিকেশনের টুংটাং শব্দ আর মেসেজ পড়ার অন্তহীন দৌড়ঝাঁপ থেকে বের হয়ে একটু স্বস্তির নিশ্বাস কে না ফেলতে চায়? কিন্তু স্মার্টফোন ছাড়া কি আজকের দিনে জীবন চলে? জিপিএস, টিকিট কাটা বা মেনু স্ক্যান করার মতো কাজগুলো কীভাবে হবে? এই সাধারণ ধারণার ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ভিন্ন এক পথের কথা বলছেন নিউ ইয়র্কের বিশিষ্ট দৃশ্যশিল্পী ও সমাজকর্মী আগস্ট লাম। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিকে কিছুটা দূরে সরিয়ে সাধারণ একটি বোতামওয়ালা (Dumbphone) বা ফ্লিপ ফোন ব্যবহার করার সুফল এতই বেশি যে, সামান্য কিছু ঝামেলার কথা অনায়াসেই ভুলে থাকা যায়।
- 📵 আসক্তি মুক্তি: প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় অপচয় বন্ধ হয়ে জীবনে অঢেল সময় ফিরে আসে।
- 🤝 গভীর সম্পর্ক: ভার্চুয়াল জগতের বাইরে বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত ও আন্তরিক হয়।
- 🧠 মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: জিপিএসের ওপর নির্ভরতা কমায় স্মৃতিশক্তি ও দিক চেনার আদিম দক্ষতা শানিত হয়।
- 🧘♂️ মানসিক প্রশান্তি: বর্তমান মুহূর্তে পুরোপুরি উপস্থিত থাকার ফলে সারাক্ষণের অস্থিরতা ও প্যানিক দূর হয়।
স্মার্টফোন ছেড়ে বাটন ফোনে ফেরার সিদ্ধান্ত
কাজের চেয়ে স্ক্রিনেই বেশি সময় কেটে যাচ্ছিল দেখে নিজেকে স্মার্টফোনে আসক্ত মনে হতে শুরু করে আগস্ট লামের। নিজের সৃজনশীলতাকে ধরে রাখতে ২০২২ সালে জীবনের বড় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্মার্টফোনকে বিদায় জানান তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ‘ইউ ডোন্ট নিড এ স্মার্টফোন: এ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইউর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইউর লাইফ’ নামে একটি বই লিখেছেন। বিজ্ঞানও তার এই ভাবনাকে সমর্থন দিচ্ছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম যে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের পরিসংখ্যানেও প্রমাণিত।
সামাজিক সম্পর্ক ও সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ
সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগস্ট জানান, স্মার্টফোন ছাড়ার পর তার বন্ধুসংখ্যা ও সম্পর্কের গভীরতা দুটোই বেড়েছে। তিনি বলেন, “স্মার্টফোন থাকলে মানুষের ভিড়ে বসেও আপনি মানসিকভাবে একা হয়ে পড়েন। ফোনটা সরিয়ে রাখলেই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়।” সময় বাঁচানোর প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন গড়ে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে স্ক্রল করি। অপচয়টা হয় একটু একটু করে। স্ক্রল করা বন্ধ করলেই এই বিশাল সময় জীবনে ফিরে আসে। অফলাইনে কাজ করতে সামান্য সময় বেশি লাগলেও, সার্বিকভাবে আপনার হাতে অঢেল সময় বেঁচে যায়।”
মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাস্তবতায় ফেরা
জিপিএস বা নেভিগেশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর পর আগস্ট তার নিজের মানসিক সক্ষমতা দেখে নিজেই তাজ্জব হয়ে যান। তার মতে, দিক বা তথ্য মনে রাখার সক্ষমতা মানুষের এক মৌলিক আদিম দক্ষতা। স্মার্টফোন ছেড়ে দিলে এই দক্ষতাগুলো খুব দ্রুতই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসে। বাস্তব পৃথিবীর সাথে যুক্ত হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “স্মার্টফোন থাকলে সব সময় মনে হতো ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু একটা ঘটছে। মনোযোগ বিভক্ত হওয়া মানেই বর্তমান থেকে ছিটকে যাওয়া। ফোন ছাড়ার পর আমি এখন যেকোনো মুহূর্তে পুরোপুরি শান্ত ও উপস্থিত থাকতে পারি।”
এক নজরে স্মার্টফোন বর্জনের প্রাসঙ্গিক তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| উদ্যোক্তা ও লেখক | আগস্ট লাম (নিউ ইয়র্কের দৃশ্যশিল্পী ও সমাজকর্মী) |
| বইয়ের নাম | ইউ ডোন্ট নিড এ স্মার্টফোন: এ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু… |
| বিকল্প ব্যবহার | ইন্টারনেট সুবিধাহীন বোতামওয়ালা বা ফ্লিপ ফোন |
| প্রধান সুবিধা (মানসিক) | স্ক্রিন টাইম কমানো, বর্তমান মুহূর্তে মনঃসংযোগ ও অস্থিরতা হ্রাস |
| প্রধান সুবিধা (সামাজিক) | আন্তরিক বন্ধুত্ব এবং মুখোমুখি যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি |
| বিশেষজ্ঞের পরামর্শ | সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস বোতামফোন ব্যবহার করে দেখা |
