বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা
বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রধান বাতিঘর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে যথাযথ মর্যাদায় সম্মানিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'নজরুল বর্ষ' ঘোষণা করেছে সরকার। এ উপলক্ষে আজ রবিবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
জাতীয় কবির কালজয়ী সৃষ্টি, জীবনদর্শন এবং বৈপ্লবিক মানবতাবাদী আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সময়সীমা ও প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত:
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু করে আগামী ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে উদযাপন করা হবে। এর আগে এই বিশেষ আয়োজনের রূপরেখা তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যা গত ২৫ মে থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
পটভূমি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা:
উল্লেখ্য, গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী এক বছরকে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সেই ঐতিহাসিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই সমস্ত রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ এই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সাংস্কৃতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
নজরুল বর্ষের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় দেশের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। সংশ্লিষ্টদের গভীর প্রত্যাশা, বছরব্যাপী এই বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উচ্চতর গবেষণা অঙ্গনে নজরুলচর্চা এক নতুন মাত্রা পাবে। এর ফলে বর্তমান সময়ের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্ম জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গভীর দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।