
অস্ত্র হাতে ‘মাদক বিরোধী অভিযানে’ অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কঠোর সমালোচনা করেছেন সদ্য পদত্যাগী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তিনি নাহিদ ইসলামকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মামলা করার আহ্বান জানান এবং একইসঙ্গে মাদকের বড় বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে সামনে ‘কঠোর শৈলীতে’ মাঠে নামার তীব্র বার্তা প্রদান করেন।
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে ইত্যাদি। আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? এরপর আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
নাম না প্রকাশ করে এনসিপির আরেক নেতার দিকে ইঙ্গিত করে ইশরাক দাবি করেন, এক তরুণ নেতা তাঁকে ফোন করে পরবর্তী অভিযানে সঙ্গে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি খোঁচা দিয়ে লেখেন—"আসলে এই পার্টির ভবিষ্যৎ শূন্য।" এর আগে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ মাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন যে, ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী তা সরকার স্পষ্ট করেনি এবং পদত্যাগ কোনো আইনি সমাধান নয়; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে অপরাধ থাকলে সরাসরি মামলা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক মন্তব্যকারীদের 'ঘোড়ার ডিমের রাজনীতি' বলে কটাক্ষ করে ইশরাক সাফ জানান, মাদক নির্মূলে তিনি কোনো পিছপা হবেন না। স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাদক কারবারিদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার ও বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’ তাঁর এই বার্তা রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
| নেতৃবৃন্দ | রাজনৈতিক অবস্থান ও মূল বক্তব্য |
|---|---|
| ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন | সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। বক্তব্য: "মামলা দিলে জেলে যাব; কিন্তু মাদক ডিলারদের বিরুদ্ধে ভিন্ন স্টাইলে লড়াই অব্যাহত থাকবে।" |
| নাহিদ ইসলাম | বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক। বক্তব্য: "পদত্যাগ কোনো আইনি সমাধান নয়, অপরাধের সুনির্দিষ্ট আইনি বিচার প্রয়োজন।" |
| বিতর্কের মূল ক্ষেত্র | গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদক অভিযান, আইনি একতিয়ার ও পদত্যাগ পরবর্তি পরিস্থিতি |