
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে চালুকৃত নতুন ৩৬ দলের লিগ ফেজ ফরম্যাট ফুটবলপ্রেমীদের সামনে নিয়ে এসেছে গোলের অভাবনীয় এক জোয়ার। টুর্নামেন্টের আকার ও ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে গোল করার অবিশ্বাস্য মানসিকতা। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলোতে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.১৬টি করে মোট ১৮৭টি গোল হয়েছে, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ছিটকে যাওয়ার সরাসরি ভয় না থাকা এবং দলগুলোর ভয়ডরহীন আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শনের কারণেই মূলত এই টুর্নামেন্টে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ইতিহাস।
বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের হার কেবল ১৯৯২ সালের পরের ইতিহাসকেই ছাড়িয়ে যায়নি, বরং এটি ইউরোপিয়ান কাপের ৭০ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কেবল ১৯৫৫-৫৬ (৪.৩৮) এবং ১৯৫৯-৬০ (৪.১৯) মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গড়ে গোল হয়েছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ম্যাচডে টু-তে মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মোট ৭৮টি গোল হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল হওয়া ম্যাচডে। এর আগে প্রথম ম্যাচডে-তে ৬৯টি গোল হয়েছিল। ম্যানচেস্টার সিটির ৫-১ গোলে জয়ী ম্যাচে ফিল ফডেনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক সহ একাধিক ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় এই রেকর্ডে বড় অবদান রেখেছে।
আগের ৩২ দলের আটটি গ্রুপের পরিবর্তে এখন চালু রয়েছে ৩৬ দলের একক লিগ ফেজ, যেখানে প্রতিটি দল ৮টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলছে। লিগ পর্বের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি নকআউট রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে এবং ৯ থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো প্লে-অফ খেলার সুযোগ পায়। ৩৬টির মধ্যে ২৪টি দলই প্রথম ধাপ পেরিয়ে টিকে থাকার সুযোগ পাওয়ায় শুরুর দিকে দলগুলোর মধ্যে ছিটকে যাওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক ভয় বা চাপ কাজ করছে না। এর ফলে ড্রয়ের জন্য রক্ষণাত্মক না খেলে প্রায় সব দলই প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করছে।
ম্যাচে গোলের জোয়ার আসায় দর্শকের বিনোদনের মাত্রা বহুগুণ বাড়লেও, এতে ফুটবলের গুণগত মান কতটা বাড়ছে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার অ্যাশলি ইয়ং ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের প্রশংসা করে বিষয়টিকে "অসাধারণ" বলেছেন। অন্যদিকে ‘দ্য টাইমস’-এর ফুটবল লেখক টম আরনট মনে করেন, "বিনোদন নিঃসন্দেহে বেড়েছে, তবে মান বেড়েছে কি না তা বলা মুশকিল। প্রাথমিক পর্বে ছিটকে যাওয়ার ভয় না থাকা দলগুলোকে মানসিকভাবে বেশ চাপমুক্ত করে দিয়েছে, যা আক্রমণাত্মক ম্যাচ উপহার দিচ্ছে।"
| পরিসংখ্যানের মাপকাঠি | বিস্তারিত তথ্য (চলতি মৌসুম) |
|---|---|
| ম্যাচ প্রতি গড় গোল | ৪.১৬টি (চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সর্বকালের রেকর্ড) |
| ইউরোপিয়ান কাপের সেরা তিন মৌসুম | ১. ১৯৫৫-৫৬ (৪.৩৮), ২. ১৯৫৯-৬০ (৪.১৯), ৩. বর্তমান (৪.১৬) |
| এক ম্যাচডে-তে সর্বোচ্চ গোল | ৭৮টি গোল (ম্যাচডে ২-এ) |
| এক দিনে সর্বোচ্চ গোল (বুধবার) | ৪৬টি গোল (ইতিহাসে ৩য় সর্বোচ্চ) |
| অংশগ্রহণকারী দল সংখ্যা | ৩৬টি দল (একক লিগ ফেজ ফরম্যাট) |
| পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার হার | ৩৬টির মধ্যে ২৪টি দল (সরাসরি ৮ + প্লে-অফ ১৬) |