অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ২২ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের অভিযান শুরু
স্পোর্টস ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ ও নেপালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। টুর্নামেন্টে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগামী ২২ জানুয়ারি নেপালের কাঠমান্ডুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারতীয় দল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটি।
এবারের আসরে অংশ নেবে ১৬টি দল। চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো প্রাথমিক পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং নেপালের কাঠমান্ডুতে।
উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২১ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।
একই দিনে সিলেটে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়া। অন্যদিকে কাঠমান্ডুতে শ্রীলঙ্কা-স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর ইংল্যান্ড খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
২২ জানুয়ারি ভারতের পাশাপাশি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে স্বাগতিক নেপালও। নেপালের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। একই দিনে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সামোয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
চার গ্রুপে ১৬ দল, কোন গ্রুপে কারা?
আইসিসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে অংশগ্রহণকারী ১৬টি দল।
গ্রুপ ‘এ’: ভারত, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপাল।
গ্রুপ ‘বি’: দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া।
গ্রুপ ‘সি’: অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ ‘ডি’: ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।
নিজেদের গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
২৬ জানুয়ারি শেষ হবে গ্রুপ পর্ব
সূচি অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। এরপর যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলো খেলবে সুপার সিক্স পর্বে।
সুপার সিক্সে দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। সেখান থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রয়োজনে ৫ ফেব্রুয়ারি রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।
চট্টগ্রামে ফাইনাল ৬ ফেব্রুয়ারি
টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে। ফাইনালের জন্যও ৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ডে নির্ধারণ করেছে আইসিসি।
ফলে বাংলাদেশে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর।
তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে বিশ্বকাপ গুরুত্বপূর্ণ: আইসিসি
আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা বলেছেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা তুলে ধরার এবং নিজ নিজ দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পথে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বিকাশে আইসিসির আস্থা ও বিনিয়োগের প্রতিফলন। দুই দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে হওয়ায় তরুণদের এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য দেশ দুটি উপযুক্ত।
শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ভারতের অভিযান, স্বাগতিক বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে আগামী জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।