ম্যানচেস্টার সিটির স্টেডিয়ামে দর্শকখরা, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তুলনা টেনে ট্রল সমর্থকদের
স্পোর্টস ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০২৬
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এএইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছে দলের দুর্দান্ত জয়ের চেয়েও ভিন্ন একটি বিষয়—ইতিহাদ স্টেডিয়ামের খালি আসন। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক কম দর্শক উপস্থিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিদ্রূপের মুখে পড়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ইতিহাদে উপস্থিতি ছিল ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশেরও কম
মঙ্গলবার এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪০ হাজার ২৪ জন। দ্য মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্কারকাজ চলায় স্টেডিয়ামটির বর্তমান ধারণক্ষমতা ৬১ হাজার ৩৮ জন।
অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির হিসাব অনুযায়ী স্টেডিয়ামের প্রায় ৬৬ শতাংশ আসনে দর্শক ছিলেন। ম্যাচ চলাকালে বেশ কিছু নীল আসন খালি দেখা যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে সাত দিনের মধ্যে ঘরের মাঠে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল সিটি। প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ের কাছে হার এবং ইপসউইচের বিপক্ষে জয়ের পর এএইকে এথেন্সের মুখোমুখি হয় পেপ গার্দিওলার দল।
প্রতিপক্ষকে তুলনামূলক সহজ মনে করা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি রাখেনি সিটি। ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিক এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শেরকির গোলে ৫-১ ব্যবধানে জয় পায় দলটি।
দর্শক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এনজো মারেসকা
স্টেডিয়ামের দর্শক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখেননি দলের কোচ এনজো মারেসকা।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ভালো ছিল। ইপসউইচের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে সমর্থকেরা দারুণ উদ্দীপনা দেখিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহে ব্রাইটনের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ রয়েছে, আর আমি নিশ্চিত, তখনও পরিবেশ দারুণ হবে।”
তবে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্লাবটির সমর্থকদের একাংশ সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একটি স্বাধীন কমিশনের রায়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লাবটি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের মতো বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে আপিলের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো নিশ্চিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Emptyhad’ নাম দিয়ে বিদ্রূপ
ইতিহাদ স্টেডিয়ামের খালি আসনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে বিদ্রূপ শুরু হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, ইউরোপের বড় প্রতিযোগিতার ম্যাচেও সিটির স্টেডিয়াম পূর্ণ থাকে না—এমন ধারণা আবারও সামনে এসেছে।
Tribuna-এর প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
এক সমর্থক ব্যঙ্গ করে লেখেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, এটি একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ।”
আরেকজন খালি আসনের দৃশ্য দেখে লেখেন, “বিশ্বাসই করা যায় না, এখানে এত আসন খালি!”
অন্য এক সমর্থক ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের আয়ের তুলনা টেনে মন্তব্য করেন, “অথচ তারা এখনো আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করে যে আয়ের দিক থেকে তারা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।”
সবচেয়ে আলোচিত বিদ্রূপগুলোর একটি ছিল স্টেডিয়ামের নাম নিয়ে শব্দের খেলা। ‘Etihad’ ও ‘empty’ শব্দ মিলিয়ে এক সমর্থক লেখেন, “সহজ কথায়, এটি ‘Emptyhad’।”
জয় সত্ত্বেও আলোচনায় দর্শকসংখ্যা
এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে বড় জয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির পারফরম্যান্সকে তুলে ধরলেও মাঠের খালি আসন নিয়ে বিতর্ক ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
তবে একটি ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি কম থাকার কারণ শুধু এই তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। সংস্কারকাজ, টানা ঘরের মাঠের ম্যাচ এবং প্রতিপক্ষ—সবকিছুই আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদ্রূপও মূলত দর্শক উপস্থিতি ও রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তুলনাকে ঘিরে।
সূত্র: GOAL, The Mirror, Tribuna