
মিয়ামি গার্ডেনস: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ শেষে এই গ্রুপের চার দলেরই পয়েন্ট সমান ১। এমন এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতিতে ফ্লোরিডার বিখ্যাত হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়ে এবং টুর্নামেন্টের নবাগত ‘জায়ান্ট কিলার’ কেপ ভার্দে।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সোমবার ভোর ৪:০০ টায় শুরু হবে এই বিগ ম্যাচ। দুই দলের জন্যই নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে উরুগুয়ে। তবে মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যদের সেই ম্যাচটি ছিল যেন দুই অর্ধে দুই রকম গল্পের মতো। প্রথমার্ধে বিবর্ণ উরুগুয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। ডারউইন নুনিয়েজকে তুলে ফেদেরিকো ভিনাসকে নামানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় লা সেলেস্তেদের হাতে। দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে রেকর্ড গড়ে ২২টি শট নেয়, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অর্ধে যৌথভাবে সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে হার এড়ায় তারা।
অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় আফ্রিকান এই দেশটি। ২০০৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে ক্লিন শিট (কোনো গোল না খাওয়া) রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছে তারা।
কেপ ভার্দের এই রূপকথার প্রধান নায়ক ছিলেন তাদের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে একাই ৭টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। উরুগুয়ের বিপক্ষেও পোস্টের নিচে এই অভিজ্ঞ দেওয়ালের ওপর ভরসা রাখবে আফ্রিকান ‘ব্লু শার্কস’রা।
Т্যাকটিক্যাল দিক থেকে কেপ ভার্দে ৫-৪-১ অথবা ৪-৫-১ ফরমেশনে একটি নিরেট ‘লো ব্লক’ ডিফেন্স তৈরি করতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে উরুগুয়েকে দূরপাল্লার শট নিতে বাধ্য করা এবং সুযোগ বুঝে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের গতিকে কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণে ওঠা।
তবে উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার রণকৌশল স্পেনের চেয়ে আলাদা। হাই-ইনটেনসিটি বা উচ্চ গতির প্রেসিং ফুটবল খেলতে ভালোবাসে উরুগুয়ে। মাঝমাঠে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং রদ্রিগো বেনটানকুরের আক্রমণাত্মক দৌড় কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙার মূল চাবিকাঠি হতে পারে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এই ম্যাচে ডারউইন নুনিয়েজের পাশাপাশি ফেদেরিকো ভিনাস শুরু থেকেই মাঠে থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
প্রথম দেখা: আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে এর আগে কখনো কোনো প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয়নি। ফলে এটি হতে যাচ্ছে দুই দলের প্রথম ঐতিহাসিক দ্বৈরথ।
আফ্রিকান রেকর্ড: বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে উরুগুয়ের রেকর্ড দুর্দান্ত। সিএএফ (CAF) ভুক্ত দেশগুলোর বিপক্ষে খেলা ৫ ম্যাচের ৪টিতেই জিতেছে লা সেলেস্তেরা (অন্য ম্যাচটি ২০১০ সালে ঘানার বিপক্ষে ড্র হয়েছিল, যা পরে পেনাল্টিতে উরুগুয়ে জেতে)।
রক্ষণ বনাম আক্রমণ: কেপ ভার্দে তাদের শেষ ৩ ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে অপরাজিত রয়েছে। অন্যদিকে উরুগুয়ে তাদের শেষ ৫ ম্যাচের ৪টিতেই ড্র করেছে, যার ফলে এই ম্যাচে গোল করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
| বিবরণ | তথ্য |
| ম্যাচ | উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে (গ্রুপ এইচ, ম্যাচ ৩৭) |
| স্থান | হার্ড রক স্টেডিয়াম, মিয়ামি গার্ডেনস, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র |
| সময় | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ভোর ৪:০০ টা (বাংলাদেশ সময়) |
| প্রধান রেফারি | এস্পেন এসকাস (নরওয়ে) |
প্রেডিকশন: ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শক্তির বিচারে উরুগুয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও কেপ ভার্দের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা উরুগুয়ের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। তবে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের গভীরতা এবং শারীরিক সক্ষমতার কারণে ম্যাচটিতে লা সেলেস্তেরা শেষ পর্যন্ত ১-০ বা ২-০ ব্যবধানে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।