
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ ও চড় মারার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন শাহজালাল রুমি নামের সেই যুবক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ফেসবুকে এক পোস্টে হুমকিদাতাদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে লেখেন— ‘ভয় আমার অভিধানে নেই! আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না। মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ।’
ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনরা জানান, গত ২১ অক্টোবর ঘটনার পর থেকে সাত বছরের শিশুটি মারাত্মক মানসিক আতঙ্কে ভুগছিল এবং মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল। পরিবার চেপে ধরলে সে জানায় যে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিন তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেছেন এবং কাউকে বললে মারধরের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর বুধবার দুপুরে অভিভাবকরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে চেপে ধরলে একপর্যায়ে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তির সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজালাল রুমি নামের এক যুবক ওই ভাইস প্রিন্সিপালকে থাপ্পড় মারেন। এই ঘটনার সিসিটিভি ও মোবাইল ফুটেজ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্তকে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনরোষের হাত থেকে মুসলেউদ্দিনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিশুটির পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা, আউচপাড়া, টঙ্গী |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মুসলেউদ্দিন (ভাইস প্রিন্সিপাল) |
| প্রতিবাদকারী যুবক | শাহজালাল রুমি (সামাজিক মাধ্যম বার্তা প্রদানকারী) |
| তদন্তকারী থানা | টঙ্গী পশ্চিম থানা (ওসি: আরিফ হোসেন) |