
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিযানের সময় বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে। এরপর ভারী বুলডোজার দিয়ে একের পর এক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি সংঘাতের পর হেবরনের হামলার স্থান এবং আশপাশের এলাকায় এসব উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হচ্ছে। ফলে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।
সাধারণত কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলার আগে নোটিশ দেওয়া, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং আপিলের সুযোগ রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে হেবরনের সাম্প্রতিক অভিযানে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে কোনো কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হেবরনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এগুলো অনুমোদনহীন অবৈধ স্থাপনা।
তবে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কঠোর বিধিনিষেধ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। ফলে স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন না থাকা এবং সেই কারণে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার বিষয়টি নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থীদের অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এসব পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
তাদের ধারণা, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে নিজেদের সমর্থকদের কাছে শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন ডানপন্থী রাজনীতিকেরা।
তবে এসব অভিযানে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস হওয়া এবং তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা মানবিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা