
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির মারাত্মক চাপ বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। শনিবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এই দাবি চূড়ান্ত করা হয় এবং রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ইতোমধ্যে সরকারও পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয় যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জ্বালানি তেলের প্রভাবে যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বড় আকারে বৃদ্ধির ফলে বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের পোশাকশ্রমিকদের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবে গত ১৫ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিকপক্ষের জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এবং শ্রমিকপক্ষের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কাছে প্রতিনিধি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠিত হলে আইবিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পোশাক খাতের অন্যান্য গ্রেডের শ্রমিকদের মজুরির হারও শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক, সহসভাপতি চায়না রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন, বাবুল আক্তার, রাশেদুল আলম, তাহমিনা রহমান, খাদিজা রহমান, জাহিদুল ইসলাম ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| সংগঠনের নাম | ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) |
| দাবি করা ন্যূনতম মজুরি | ২৬০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩২,০০০ টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) |
| পূর্বের মজুরি (২০২৩) | ১২,৫০০ টাকা (৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে নির্ধারিত হয়েছিল) |
| বর্তমান প্রক্রিয়া | শ্রম ও কর্তৃক নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু |