
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ।
ইয়াহু ফাইন্যান্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শেয়ারবাজারের পতনের সময় স্বর্ণকে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বর্তমান প্রযুক্তিশেয়ারের দরপতনের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের দামও কমেছে। ফলে প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংক অব আমেরিকার কৌশলবিদ পল সিয়ানার মতে, ৩,৯৪৩ ডলারের স্তরটি স্বর্ণের দাম ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই স্তর ভেঙে যায়, তবে দাম প্রথমে ৩,৮৮৬ এবং পরবর্তীতে ৩,৭০০ ডলারে নেমে যেতে পারে।
স্বল্প মেয়াদে পতনের ঝুঁকি থাকলেও সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেতিবাচক নয়। ইউবিএস এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর কিংবা ওই বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকের দিকে। ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় এবং ডলারের মূল্য বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।