
আঞ্চলিক সমন্বয় ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে আজ সোমবার দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মক্কা চুক্তির তিন সদস্য দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর তেহরানের সঙ্গে এই দেশগুলোর এটিই প্রথম সরাসরি কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মুখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও পারস্পরিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়টি বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব যৌথভাবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সমগ্র জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সদস্য দেশগুলো সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। ইতোমধ্যে পাকিস্তান চুক্তিটি অনুমোদন করেছে এবং তুরস্কের পার্লামেন্টেও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই ত্রিমুখী জোটের তেহরান সফর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।