
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয়ের ম্যাচে জন্ম নিল এক অদ্ভুত ডিআরএস (DRS) নাটকীয়তা। শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য ৮৯ রানের শেষ উইকেটের জুটিতে ভর করে পাকিস্তান জয়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও, ৪৫তম ওভারে শাদাবকে এলবিডব্লিউ (LBW) আউট দেন আম্পায়ার। শাদাব নিজেও হার মেনে নিয়েছিলেন, এমনকি ব্রডকাস্টাররাও ইংল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের একটি মরিয়া রিভিউ পাল্টে দিল পুরো ম্যাচের গল্প!
পাকিস্তানের জয়ের জন্য যখন ৩৫ বলে ২১ রান দরকার, তখন গাস অ্যাটকিনসনের একটি ফুল ও নিচু ডেলিভারি শাদাবের প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আঙুল তুলে আউট দিলে হতাশায় ব্যাট ছুঁড়ে ফেলেন ৯৭ রানে ব্যাট করতে থাকা শাদাব। শেষ উইকেটের এই পতন মানেই পাকিস্তানের নিশ্চিত হার। শাদাব নিজেও বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি আউট হয়েছেন।
আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং শাদাবের সাথে করমর্দন করতে শুরু করেন। অসাধারণ এক ইনিংস খেলার পর জো রুট তাকে সান্ত্বনাও দিচ্ছিলেন। মাঠের ঘোষক এবং টিভির ব্রডকাস্টাররা ততক্ষণে ইংল্যান্ডকে ২০ রানে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছিল। কিন্তু মাঠ ছাড়ার ঠিক আগে, প্রায় আশা ছেড়েই কেবল নিয়ম রক্ষার খাতিরে একটি ডিআরএস (DRS) রিভিউ নেন শাদাব খান।
টিভি রিপ্লেতে শুরুতে বল সোজা স্টাম্পে আঘাত হানতে দেখা গেলেও, আল্ট্রা-এজ (UltraEdge) পরীক্ষা করার সময় ধারাভাষ্যকার ও দর্শকদের চমকে দিয়ে বড় একটি 'স্পাইক' ধরা পড়ে। অর্থাৎ, বল প্যাডে লাগার আগে শাদাবের ব্যাটে স্পর্শ করেছিল! অন-ফিল্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হলে গাদ্দাফি স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। অবিশ্বাস আর স্বস্তিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন শাদাব। শেষ পর্যন্ত এই রিভিউটিই পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ের পথ সুগম করে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ভেন্যু | গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, লাহোর |
| নাটকীয় ওভার | ৪৫তম ওভার (বোলার: গাস অ্যাটকিনসন) |
| শাদাবের তৎকালীন রান | ৯৭ রান (অপরাজিত) |
| জয়ের সমীকরণ | শেষ উইকেটে ৩৫ বলে ২১ রান প্রয়োজন ছিল |
| ডিআরএস-এর ফলাফল | আল্ট্রা-এজে স্পাইক ধরা পড়ে (সিদ্ধান্ত বদল) |
| ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল | পাকিস্তান ১ উইকেটে জয়ী |