
ব্যথার অনুভূতি শুধু শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না, এটি প্রকাশের ধরনেও সামাজিক ও মানসিক বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পরীক্ষক যখন পুরুষদের ব্যথার মাত্রা জানতে চান, তখন পুরুষেরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভবের কথা জানান। তবে নারীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষকের লিঙ্গের কারণে একই ধরনের পার্থক্য দেখা যায়নি।
২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত ওই গবেষণায় ব্যথা অনুভব ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে পরীক্ষকের লিঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে লেজার ও বৈদ্যুতিক উদ্দীপনার মাধ্যমে ব্যথা সৃষ্টি করা হয়। পরে তাদের কাছে ব্যথার মাত্রা জানতে চাওয়া হয়। এতে দেখা যায়, নারী পরীক্ষকের কাছে পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা তুলনামূলক কম ব্যথার কথা জানিয়েছেন।
শুধু পরীক্ষাগারেই নয়, অস্ত্রোপচারের পর ২৪৫ জন রোগীর ওপর পরিচালিত পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নারী পরীক্ষকের কাছে পুরুষ রোগীরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভবের কথা জানান। তবে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষকের লিঙ্গের সঙ্গে ব্যথা জানানোর মাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের ধারণা, নারী পরীক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের সময় পুরুষদের মধ্যে সামাজিক প্রত্যাশা, সহমর্মিতার অনুভূতি কিংবা অবচেতন আচরণ কাজ করতে পারে। এসব কারণে তাঁরা হয়তো নিজেদের ব্যথার মাত্রা কম করে প্রকাশ করেন।
তবে ঠিক কোন কারণে এমন পার্থক্য দেখা যায়, তা নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
ব্যথা কতটা তীব্র, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকেরা রোগীর নিজের বর্ণনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করেন। রোগী যদি প্রকৃত ব্যথার মাত্রা কম করে জানান, তাহলে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে গবেষণাটির ফলাফল দিয়ে সব পুরুষের ব্যথা অনুভব বা তা প্রকাশের ধরন ব্যাখ্যা করা যাবে না। ব্যথার অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীর লিঙ্গ বা পরীক্ষকের পরিচয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রত্যেকের উপসর্গ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।