
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে শক্তিশালী, ডানপন্থী ও জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইহুদি জনগণ এবং যারা ইহুদি রাষ্ট্রকে সমর্থন করে তাদের ডানপন্থী জোট একটি ‘নির্ধারক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জন করেছে। সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ইসরায়েল বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাহসিকতা ও সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির চেহারা পাল্টে গেছে। দেইফ, হানিয়াহ, সিনওয়ার, নাসরুল্লাহ ও খামেনির মতো শীর্ষ শত্রুদের নির্মূল করার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বর্তমান সময়ে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল এবং ইসরায়েল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
সাফল্যের কথা বললেও যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সতর্ক করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে কসম খাওয়া ধর্মান্ধ শক্তিগুলো আবারও চেষ্টা চালাতে পারে। তবে বন্ধুপ্রতিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে এই অস্তিত্বের সংকট চিরতরে দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে। এই পবিত্র মিশন থেকে কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যেন তাদের বিচ্যুত করতে না পারে, সে বিষয়েও তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন।
নির্বাচনী জয়ের পর রাজনৈতিক ফ্রন্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে একটি শক্তিশালী, জাতীয় ও ডানপন্থী সরকার গঠন করা অপরিহার্য। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে গান গেয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এটি কেবল একটি নতুন যাত্রার সূচনা মাত্র এবং ভবিষ্যতেও তারা দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন অব্যাহত রাখবেন।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| বক্তা ও স্থান | বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (প্রধানমন্ত্রী, ইসরায়েল); লিকুদ পার্টি সদর দপ্তর, জেরুজালেম |
| রাজনৈতিক ঘোষণা | শক্তিশালী, ডানপন্থী ও জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা |
| নিরাপত্তা ও সামরিক দাবি | শীর্ষ শত্রুদের নির্মূল এবং গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল স্থাপন |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরান থেকে অস্তিত্বের হুমকি চিরতরে দূর করা |