
বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কর্মসূচির আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে ফুলব্রাইট কর্মসূচির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো, শিক্ষক ও গবেষক বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে কমিশন ও ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি বিভাগের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে ইউজিসি ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য শিক্ষক ও গবেষকদের দ্বিমুখী একাডেমিক বিনিময় জোরদার করা জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকেরা যাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং বিদেশি শিক্ষাবিদেরা যাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের মতে, শিক্ষক ও গবেষক বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে দেশে ও বিদেশে শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য ফেলোশিপের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কমিশন।
এদিকে, ‘ইউজিসি-ফুলব্রাইট’ নামে একটি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও করছে ইউজিসি। এর আওতায় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে গবেষণার জন্য পিএইচডি বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর স্কট হার্টম্যান ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করবে। এরপর সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তুত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ফুলব্রাইট কর্মসূচি শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করে। ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা, ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।