
নারী ফুটবল বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হলেও পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে সমতা আনার লক্ষ্য থেকে এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে দলগুলোর জন্য মোট ১০ কোটি ডলারের কিছু বেশি প্রাইজমানি বরাদ্দ ছিল। আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপে এই অর্থ বাড়িয়ে ২২ কোটি ডলার করা হচ্ছে। যদিও এই অঙ্ক উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সম্প্রতি ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ শেষে ১৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয়ের ঘোষণা দেয় ফিফা। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও ‘স্কাই স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এখনো পুরুষদের আসরের তুলনায় অনেক কম। ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষিত নারী-পুরুষের প্রাইজমানিতে সমতা আনার লক্ষ্যও পূরণ হচ্ছে না।
২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপে দলগুলোর জন্য মোট ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রাইজমানি বরাদ্দ ছিল।
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের আগে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের ধারণা ছিল, পুরুষ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার মধ্যেই নারী বিশ্বকাপের স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রচারকদের সমালোচনা করেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো।
তখন তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের পুরুষ এবং ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানির ক্ষেত্রে সমতা আনাই ফিফার লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, এই লক্ষ্য ফিফা নিজেই নির্ধারণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে সংস্থাটি কাজ করছে। তবে সম্প্রচারক ও স্পন্সরদেরও এ ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ইনফান্তিনোর ওই বক্তব্য সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলে ফিফার বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ নারী ফুটবলেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এদিকে, ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রস্তুতিমূলক অর্থও দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। প্রতিটি দলকে প্রস্তুতির জন্য ২৫ লাখ ডলার করে দেওয়া হবে।