
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে আজ শনিবার। তবে এবার পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই গত বছরের তুলনায় কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ডসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, এবার এই দুই সূচকেই অবনতি দেখা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে পরীক্ষার পাঠ্যসূচি ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন। গতবারের তুলনায় এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় ও পরিশ্রম করতে হয়েছে। বড় সিলেবাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়তি চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। গতানুগতিক প্রশ্নের বাইরে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশা অনুযায়ী উত্তর দিতে পারেননি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এবার তুলনামূলক কঠোরতা অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কড়াকড়ি থাকায় ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে কলেজের পরিবেশ ও নিয়মিত পড়াশোনার ঘাটতিকেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ওই সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এর প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিত কলেজে যাওয়া ও শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়। কারও কারও মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহাও তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, প্রশ্নপত্রের ধরন, কঠোর মূল্যায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ—এসব বিষয় এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ ফল প্রকাশের পরই পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।