
জনগণ পাশে থাকলে সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করেই ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য যে জাতি বুকে গুলি নিতে পারে, সেই জাতি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় লংমার্চে যাওয়ার পথে শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতুর কাছে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার আগামী ৯ তারিখের আগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা না দিলে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, জনগণ তাদের সঙ্গে থাকলে সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পথসভায় জামায়াতের আমির বলেন, সাত দফার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এই দাবি পূরণ না হওয়ায় অন্য ছয়টি দাবি সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জনগণের গণরায়কে উপহাস করছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সরকার জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চালিয়ে যেতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পথসভায় খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুনুল হক বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ সরকারকে চূড়ান্তভাবে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
জেলা জামায়াতের আমির আবদুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুনুল হক। এ সময় দলটির মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।