
শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনই সত্যি হলো। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত ২৫ সদস্যের দলে নেই ভারতের জাতীয় দলের নিয়মিত অনেক ফুটবলার। দলটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান কোচ নওশাদ মুসাকে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দল ঘোষণা করে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
ভারতের মূল জাতীয় দল ওই সময় নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যস্ত থাকবে। সেখানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর অকল্যান্ডে এবং ১৫ নভেম্বর ক্রাইস্টচার্চে।
সাফের জন্য ঘোষিত দলে সিনিয়র জাতীয় দলের কয়েকজন পরিচিত মুখের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলারদেরও রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন লিস্টন কোলাসো, ইরফান যাদওয়াদ ও ব্রিসন ফার্নান্দেস। নওশাদ মুসার সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন বিবিয়ানো ফার্নান্দেস।
ভারতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক সূচির জটিলতা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সূচি ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু হওয়ার কথা। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলমান থাকায় টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে খেলোয়াড় ছাড়তে ক্লাবগুলোর বাধ্যবাধকতা নেই।
এআইএফএফের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই কয়েকজন ফুটবলার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। অন্যরা গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দলে যোগ দিতে পারেন।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। আগামী ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে ভারত। একই সময়ে ১১ নভেম্বর মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে দলটি।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। আগামী ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল। আর ফাইনাল মাঠে গড়াবে ১৭ নভেম্বর।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল ভারত। বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কুয়েতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে জয় পায় তারা। এবার শিরোপা জিততে পারলে নিজেদের সাফ শিরোপার সংখ্যা নয়টিতে উন্নীত করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
গোলরক্ষক: আর্শ আনোয়ার শেখ, মোহনরাজ কে ও প্রিয়াংশ দুবে।
ডিফেন্ডার: আবদুল রাবিহ, বিজয় ভার্গিস, চিংলেনসানা সিং কনশাম, হমিংথানমাউইয়া রাল্তে, খাইমিনথাং লুংদিম, মুহাম্মদ উভাইস, নাথান রদ্রিগেস, রনি খারবুদন ও সন্দীপ মান্ডি।
মিডফিল্ডার: অভিষেক সূর্যবংশী, অ্যাডিসন সিং থোকচম, ব্রিসন ফার্নান্দেস, এবিনদাস যেসুদাসান, ফারুখ চৌধুরী, ম্যাকার্টন নিকসন, মাঙ্গলেনথাং কিপগেন, নিখিল প্রভু, নওফল পি এন, রিকি জন শাবং ও সুরেশ সিং ওয়াংজাম।
ফরোয়ার্ড: ইরফান যাদওয়াদ, লিস্টন কোলাসো, মুহাম্মদ সুহাইল, বিষ্ণু পি ভি ও সুহাইল আহমেদ ভাট।