
আরব উপসাগরে (পারস্য উপসাগর) কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ‘আল মায়েদা’ নামের ট্যাংকারটিতে অজ্ঞাত কোনো বস্তু আঘাত হানে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জ্বালানি রুট ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামলার পর ট্যাংকারটির অবস্থা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছে এবং এর কার্যক্রম চালু রয়েছে। হামলায় কে বা কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আরব উপসাগর এবং এর সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন রুটের স্বীকৃতি, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা কমানো, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ঘোষণা, কাতারে থাকা জব্দকৃত অর্থসহ সব তহবিল ছাড়, হরমুজে নির্দিষ্ট রুট ছাড়া অন্য সব রুট বন্ধ রাখা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| আক্রান্ত ট্যাংকার ও দেশ | ‘আল মায়েদা’ (কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি) |
| ঘটনার সময় ও স্থান | ৩০ অক্টোবর রাতে, আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) |
| ইরানি বক্তব্যদাতা | আব্বাস আরাঘচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরান) |
| প্রধান দাবি ও শর্ত | মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সেনা হ্রাস ও লেবাননে হামলা বন্ধ |