
ঢাকা শহরের চিকিৎসা সেবায় এক অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোর পুরো মাল্টি-ভেন্ডর সিস্টেম—যার মধ্যে রয়েছে ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ডক্টর-অ্যাট-হোম এবং রিয়েল-টাইম মেডিসিন ডেলিভারি—এখন পরিচালিত হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় একটি 'এআই অ্যাভাটার' (AI Avatar) দ্বারা। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই বিশাল ডেটাবেস ও এআই সিস্টেমটি কোনো বিশাল সার্ভার রুমে নয়, বরং হাতের তালুতে এঁটে যাওয়া 'কোয়ান্টাম পাই-১০' (Quantum Pi-10) নামক একটি মাইক্রো-কম্পিউটারে প্রসেস করা হচ্ছে।
বিশ বছর আগেও যেখানে ক্লাউড সার্ভার বা সাধারণ প্রোগ্রামিং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হতো, আজ সেখানে স্থান করে নিয়েছে কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং (QML)। কিন্তু কীভাবে এই কল্পনার মতো প্রযুক্তি বাস্তবে কাজ করছে? চলুন জেনে নিই বিজ্ঞানের এই চমৎকার দিকটি সম্পর্কে।
সাধারণত আমাদের চিরচেনা ক্লাসিক্যাল কম্পিউটার (বা সাধারণ ল্যাপটপ/সার্ভার) কাজ করে 'বিট' (Bit) এর মাধ্যমে, যার মান হয় ০ অথবা ১। কিন্তু 'কোয়ান্টাম পাই' কাজ করে কিউবিট (Qubit) দিয়ে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি বিশেষ ধর্ম হলো সুপারপজিশন (Superposition)। এর মানে হলো, একটি কিউবিট একই সাথে ০ এবং ১—উভয় অবস্থাতেই থাকতে পারে।
ঠিক এই প্রযুক্তিটিই ব্যবহার করা হচ্ছে হাসপাতালের নতুন এআই অ্যাভাটারে। যখনই কোনো রোগীর ইমার্জেন্সি কল আসে, এআই অ্যাভাটার তার স্পিচ রিকগনিশন (Speech Recognition) অ্যালগরিদম দিয়ে মাত্র কয়েক মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে রোগীর গলার স্বর, মানসিক চাপ এবং লক্ষণের ডেটা বিশ্লেষণ করে ফেলে।
আগে যেখানে ট্রাফিক বা সার্ভার ডাউন থাকার কারণে সেবা পেতে দেরি হতো, এখন 'কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট' (Quantum Entanglement) প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিরো ল্যাটেন্সিতে ডেটা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে:
প্রযুক্তিবিদরা জানাচ্ছেন, এআই-এর এই কোয়ান্টাম উল্লম্ফন আমাদের জীবনযাত্রাকে জাদুকরী রূপ দিলেও ডেটা সিকিউরিটি বা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার এত দ্রুত রোগের সমাধান দিতে পারে, তা চাইলে যেকোনো সাধারণ পাসওয়ার্ডও মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলতে পারে। তাই কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি বা নিরাপত্তার নতুন স্তর তৈরি করাই এখন বিজ্ঞানীদের প্রধান লক্ষ্য।