
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটিয়েছেন শুকরি কনরাড। খেলোয়াড়দের মধ্যে 'বিশ্বাস' বা 'বিলিফ' (Belief) কীভাবে স্থাপন করতে হয়, শনিবার নিউল্যান্ডসে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে সেই প্রশ্নটিই উঠে আসে। কারণ কনরাড দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রোটিয়াদের ড্রেসিংরুমের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। প্রতিভাধর খেলোয়াড় থাকলেও চাপের মুখে ভেঙে পড়ার যে দুর্নাম দক্ষিণ আফ্রিকার ছিল, তা এখন অতীত। কনরাডের জাদুকরী ছোঁয়ায় এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের অদম্য বিশ্বাস বুনে দেওয়ায় দলটি এখন আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
কনরাডের মতে, তাঁর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসাধারণ কিছু করার সত্যিকারের বিশ্বাস রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিনিয়ত তাদের মনে করিয়ে দিতে হয়। মাঠে ফলাফল আসার পরই তারা বোঝে যে আমি শুধু তাদের উৎসাহ দিচ্ছিলাম না। আমরা পদে পদে এই বিশ্বাসকে এগিয়ে নিয়ে যাই। এটি অন্ধ কোনো বিশ্বাস নয়; এটি খেলোয়াড়দের চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যা আমি ড্রেসিংরুমে দেখি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, খেলোয়াড়রা যখন মাঠে গিয়ে সেই বিশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারে, তখনই তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিংসমিডে ২১৪ রানে হেরে যাওয়ার পর সেন্ট জর্জেস পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচেও ইনিংস ও ৩১ রানে দুর্দান্ত জয় পায় প্রোটিয়ারা। এরপর নিউল্যান্ডস টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে থেকেও রায়ান রিকেলটন (১০১) ও উইয়ান মুল্ডারের (১১৫) প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ায়। দ্বিতীয় ইনিংসে কাগিসো রাবাদা ও সাইমন হারমারের স্পিন ঘূর্ণিতে অজিদের মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদা এই ম্যাচেই বলের হিসেবে দ্রুততম ৩৫০ টেস্ট উইকেটের বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
কনরাডের কোচিংয়ের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া। নিউল্যান্ডস টেস্টে কেশভ মহারাজের বদলে সাইমন হারমারকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও, ৬ উইকেট নিয়ে হারমার কোচের আস্থার প্রতিদান দেন। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা কোচের এই 'পাগলাটে ফর্মুলার' প্রশংসা করে বলেন, "আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত ১০০% বিশ্বাস নিয়ে নিই।" কনরাডের অধীনে এখন পর্যন্ত ২০ জন খেলোয়াড়ের টেস্ট অভিষেক হয়েছে। মার্কুয়েস অ্যাকারম্যানের মতো মিডল অর্ডার ব্যাটারকে ওপেনার হিসেবে খেলানোর ঝুঁকি নিয়েও সফল হয়েছেন তিনি।
| পরিমাপক (Metric) | কনরাডের অধীনে পরিসংখ্যান (২০২৩ - বর্তমান) |
|---|---|
| মোট টেস্ট ম্যাচ | ২৩টি |
| ম্যাচের ফলাফল | জয়: ১৭, ড্র: ১, হার: ৫ |
| মোট সিরিজ | ১১টি (৯টিতে জয়, ২টিতে ড্র) |
| নতুন খেলোয়াড় অভিষেক | ২০ জন খেলোয়াড় |
| বর্তমান র্যাঙ্কিং | আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ১নং এবং WTC পয়েন্ট টেবিলে ২নং |
| উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য | অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ এ হারানো এবং ভারতে ২৫ বছর পর সিরিজ জয় |