
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। ভয়াবহ গরমে ফ্রান্স-এ অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পরিবারের গাড়ির ভেতরে অতিরিক্ত গরমে আটকা পড়ে মারা যাওয়া দুই শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, যা অনেক স্থানে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অথবা পাঠদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে পরিবারের গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে তাপজনিত অসুস্থতায় তিনজন বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গরম থেকে স্বস্তি পেতে বিভিন্ন জলাশয়ে নামার সময় দুর্ঘটনায় আরও ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাজ্য-এ চলতি সপ্তাহেই জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। দেশটিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে বর্তমানে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাহারা মরুভূমি থেকে উষ্ণ বায়ু ইউরোপে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকছে, যা তীব্র তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, ইতালি-র ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে, যা মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।