
স্প্যানিশ ফুটবলে নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়া। লা লিগা ২-এর ম্যাচে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে মারাত্মক আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন সিডি তেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাঁর মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদটি নিশ্চিত করা হয়। আগের দিন, সোমবার (২ নভেম্বর) ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মাঠে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
সোমবার স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সিডি তেনেরিফ ও এফসি আন্দোরা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে (৯০+৭ মি.) একটি দীর্ঘ পাসের বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে মাঠের মাঝামাঝি উঠে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। এ সময় উঁচুতে পা তুলে ট্যাকল করতে গিয়ে দে মিগেলের সঙ্গে তাঁর প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে মাঠেই দে মিগেলের হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাকর্মীরা মাঠে ছুটে আসেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ ঘটনার কারণে ম্যাচটি ২-২ স্কোরেই স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সোমবার রাতে দে মিগেলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হলেও মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্নায়বিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সিডি তেনেরিফ এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানায়, "গভীর শোকে আমরা ভেঙে পড়েছি। এটি বিশ্বাস করা অসম্ভব কঠিন। শোকে বিধ্বস্ত তাঁর পরিবার, স্বজন ও তেনেরিফ ফুটবল সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে ক্লাব।" প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ওওনোকে লাল কার্ড দেখালেও সতীর্থ খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে দে মিগেলের কাছে ছুটে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
হেসুস দে মিগেলের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে বার্সেলোনা, এফসি আন্দোরা, তাঁর সাবেক ক্লাব সিডি কাস্তেয়নসহ স্পেনের নামি-দামি সব ফুটবল ক্লাব। লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, "আমরা সবাই আজ এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা ভাগ করে নিচ্ছি।" উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে সিডি তেনেরিফে যোগ দিয়ে ক্লাবটিকে দ্বিতীয় বিভাগে তুলে আনতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন এই প্রতিভাবান ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহত ফুটবলার | হেসুস দে মিগেল আলামেদা (বয়স: ৩০ বছর) |
| বর্তমান ক্লাব ও ভূমিকা | সিডি তেনেরিফ (স্ট্রাইকার) |
| প্রতিপক্ষ ও টুর্নামেন্ট | এফসি আন্দোরা | লা লিগা ২ (স্পেন) |
| সংঘর্ষের কারণ ও সময় | গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর উঁচুতে পা তুলে ফাউল (৯০+৭ মিনিট) |
| মৃত্যুর সময় ও কারণ | ৩ নভেম্বর ২০২৬ (সকাল ৮:০০টা) | স্নায়বিক অবক্ষয় ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট |
| ম্যাচের অবস্থা | ২-২ সমতায় ম্যাচ স্থগিত করা হয় |