
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেকর্ড পরিমাণ অজনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক জয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিএনএনের নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত ঘাঁটিগুলোতে বড়ধরের আঘাত হেনেছে। টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। একইভাবে কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেও এবার সেখানে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। সাউথ ক্যারোলাইনা ও আইওয়ার মতো রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতেও অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে জনগণের ক্ষোভই এই ভরাডুবির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে ক্ষমতার ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। যদিও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেটে আইন পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের বাধ্যবাধকতার কারণে ডেমোক্র্যাটদের পছন্দমতো আইন পাস করা সহজ হবে না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে সমন জারির ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে। বিশেষ করে, বিচার বিভাগীয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নামগুলো আটকে দেওয়ার শক্তিশালী সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধী দলের জন্য।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| নির্বাচনের ফল | কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে |
| পরাজিত দল | রিপাবলিকান পার্টি (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল) |
| প্রধান জয় পাওয়া রাজ্যসমূহ | টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, কানসাস, ওহাইও ও আইওয়া |
| রাজনৈতিক প্রভাব | ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি ও বিচারক নিয়োগে বাধার ক্ষমতা অর্জন |