
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের পেছনে তালতলা ঝিলের কচুরিপানা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে চলমান আন্দোলনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে যে সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হবে, সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি মহল আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তথ্য রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নাম ব্যবহারকারী কেউ আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ কাজে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তাঁরা নানা সমস্যা ও অসঙ্গতি দেখতে পান। কোথাও কোনো সমস্যা চোখে পড়লে তা সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঢাকাকে সত্যিকার অর্থে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সার্থকতা আসবে।