
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শ্রমিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় এ বিক্ষোভে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্যারিসের বাইরে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী এবং মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ফরাসি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এবারও প্রায় একই ব্যবস্থা রাখা হবে।
তিনি জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইজিএনের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রস্থল ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মিছিল কোন পথে যাবে, তা নিয়ে আয়োজক ও পুলিশের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রস্তাবিত রুটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আয়োজকেরা। তবে প্রশাসনিক আদালত পুলিশের নির্ধারিত পথই বহাল রেখেছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করবেন।
এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্লাস দ্য লা বাস্তিল থেকে জাতীয় পরিষদের কাছাকাছি প্লাস দ্য লা কনকর্ড পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রাজধানীতে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই রুটে অনুমতি দেয়নি। পরে বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়।
বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে ধর্মঘটের কর্মসূচি থাকায় ফ্রান্সের পরিবহণব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশটির জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের চলমান সামাজিক ও শ্রমিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।