
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর 'গ্রুপ এল'-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঘানার রক্ষণভাগের কাছে আটকে গেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে (জিলেট স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ০-০ গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়ে ইংলিশরা একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ঘানার সুশৃঙ্খল ডিফেন্স ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় হ্যারি কেইনরা।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। প্রায় ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৯টি শট নেয় থমাস টুখেলের শিষ্যরা। তবে কার্লোস কুইরোজের অধীনে ব্ল্যাক স্টারসরা (ঘানা) চমৎকার এক 'লো ব্লক' (পুরো দল রক্ষণভাগে নেমে আসা) তৈরি করে ইংলিশদের আক্রমণগুলো রুখে দেয়। যার ফলে ১৯টি শটের মধ্যে মাত্র ৩টি শট অন-টার্গেট রাখতে পেরেছিল ইংল্যান্ড।
খেলার প্রথমার্ধের শেষে জুড বেলিংহাম এবং ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচটি বেশ শারীরিক শক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে। ম্যাচের শেষভাগে বদলি খেলোয়াড় প্রিন্স কোয়াবেনা আদুকে ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসা বক্সের ভেতর ফাউল করেছেন দাবি করে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় ঘানা। তবে ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘানার শিবির।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে রোমাঞ্চ চরমে পৌঁছায়। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের:
বদলি খেলোয়াড় নিকো ও'রাইলির একটি শক্তিশালী হেডার গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ফিরতি বলে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও অধিনায়ক হ্যারি কেইন অবিশ্বাস্যভাবে ভলি করে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।
ইনজুরি টাইমে (Stoppage Time) মার্ক গুয়েহির একটি নিশ্চিত গোলমুখী হেডার ঘানার গোললাইন থেকে নাটকীয়ভাবে ক্লিয়ার করেন তাদের ডিফেন্ডাররা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড, অন্যদিকে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ঘানা। এই ড্রয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে উভয় দলেরই সংগ্রহ এখন ৪ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। এই ফলাফলের পর দুই দলই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (রাউন্ড অফ ৩২) প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।