চাঁদপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ ইটভাটা। নতুন মৌসুম শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ইটভাটা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকরা। কোথাও ইট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, আবার কোথাও ইট পোড়ানোর জন্য মজুত করা হচ্ছে জ্বালানি কাঠ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলায় মোট ৯৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে ৪৮টি ইটভাটাকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৪৬টি ইটভাটা বৈধ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটায় মৌসুম শুরুর প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে ইট তৈরির কাজ চলছে। কোথাও আবার ভাটা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জ্বালানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ফরিদগঞ্জে। সেখানে রয়েছে ১৪টি। এ ছাড়া শাহরাস্তিতে ৮টি, মতলব উত্তরে ৭টি, হাজীগঞ্জে ৬টি, চাঁদপুর সদরে ৫টি, মতলব দক্ষিণে ৪টি, কচুয়ায় ৩টি এবং হাইমচরে একটি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।
বিশেষ করে ফরিদগঞ্জের কয়েকটি ইটভাটার আশপাশে রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ইটভাটা চালু হলে ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে আশপাশের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কয়েকটি ভাটায় ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে গাছের গুঁড়ি মজুত করতেও দেখা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সে সময় কয়েকটি ভাটাকে জরিমানা করার পাশাপাশি কিছু স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পর অনেক ভাটায় আবার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানা গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ৪৮টি অবৈধ ও ৪৬টি বৈধ ইটভাটা রয়েছে। অবৈধ ভাটা পরিচালনা বন্ধে মালিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার চারটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ইট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুর রহমানের দাবি, অবৈধ তালিকায় থাকা অধিকাংশ ইটভাটা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তালিকায় এমন কিছু ভাটাও রয়েছে, যেগুলোর চিমনি এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ। আবার কিছু মালিক হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে ইটভাটা পরিচালনা করছেন।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, জেলার ৪৮টি অবৈধ ইটভাটার মালিককে কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এর আগেও কয়েকটি ইটভাটা ভেঙে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার পাশাপাশি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আইন প্রয়োগ করবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও নতুন মৌসুমে অবৈধ ইটভাটাগুলো কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।