
তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নেপথ্যে অর্থায়ন রয়েছে—এমন সন্দেহে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। এনবিআরের করসংক্রান্ত দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই চিঠি পাঠিয়েছে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় মন্ডল গ্রুপের সর্বোচ্চ ২৮টি প্রতিষ্ঠানসহ গিভেন্সি, স্ট্যান্ডার্ড, নিপা, ওয়েল ও তুসুকা গ্রুপের নাম রয়েছে। এছাড়া ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের স্বামী আলিফ মোল্লা, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম আবদুল মান্নান এবং মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বিবেচনা করে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব সরাসরি জব্দ না করে কেবল লেনদেনের তথ্য তলব করা হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে তুসুকা গ্রুপের এক উদ্যোক্তা এই পদক্ষেপকে অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের কারখানাগুলোয় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন এবং নিজ স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজে মালিকপক্ষের যুক্ত থাকার কোনো কারণ নেই। এ ধরনের পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা। তবে গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং পোশাক খাতের চলমান আন্দোলনকে অস্থিতিশীল করার নেপথ্য কারণ উদঘাটনেই এনবিআর এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| পদক্ষেপ গ্রহণকারী সংস্থা | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিট |
| তদন্তের মূল কারণ | তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে আর্থিক সহায়তা বা উসকানির অভিযোগ যাচাই |
| অব্যাহত প্রক্রিয়া | প্রায় ১০০ ব্যক্তির হিসাব জব্দ এবং ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য তলব |
| উল্লেখযোগ্য গ্রুপসমূহ | মন্ডল, গিভেন্সি, স্ট্যান্ডার্ড, নিপা, ওয়েল ও তুসুকা গ্রুপ |