
ডিজিটাল যুগে যেখানে সবাই স্ক্রিনে চোখ রাখতে ব্যস্ত, সেখানে স্টেডিয়ামের উন্মাদনা ও গ্যালারির ফুটবলীয় আবেগ ধরে রাখতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। নিজেদের ৮২,০০০ আসনবিশিষ্ট ওয়েস্টফালেনস্টাডিয়নে ম্যাচ চলাকালীন সমর্থকদের স্মার্টফোনের ব্যবহার কমানোর জন্য একটি বিশেষ পুরস্কার কর্মসূচি চালু করেছে ক্লাবটি। ডর্টমুন্ড অ্যাপে 'ফ্যান মোড' চালু করে খেলা চলাকালীন ফোন ব্যবহার না করলে সমর্থকরা উপহার হিসেবে পাচ্ছেন পয়েন্ট, ক্লাবের সই করা জার্সি ও অফিশিয়াল স্টোরের ভাউচার।
জার্মান ক্লাব ফুটবলে সমর্থকরাই মূল ক্ষমতার অধিকারী। ক্লাবের '৫০+১' মালিকানা বিধির কারণে এখানে বাইরের বিশাল বিনিয়োগকারীদের চেয়ে সমর্থকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেখানে আর্সেনালের সবচেয়ে সস্তা সিজন টিকেটের দাম £৯৭৮ ডলার ($১,৩০৯), সেখানে বায়ার্ন মিউনিখে ১৭টি হোম ম্যাচের জন্য সিজন টিকিট শুরু হয় মাত্র ১৮০ ইউরো ($২০০) থেকে। বাণিজ্যিকীকরণের যুগে স্টেডিয়ামের আসল পরিবেশ টিকিয়ে রাখার এই সংস্কৃতি কেবল বুন্দেসলিগাতেই দেখা যায়।
স্টেডিয়ামে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ম্যাচ উপভোগে বিঘ্ন ঘটছে এবং ব্রডকাস্টিং স্বত্ব লঙ্ঘন হচ্ছে বলে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা অভিযোগ করে আসছে। ২০২৬ ইউএস ওপেন টেনিসে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উইম্বলডন ঘোষণা দিয়েছে যে ২০২৭ সাল থেকে তথাকথিত 'কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের' গ্যালারিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। জার্মান ক্লাবগুলোও একইভাবে ঐতিহ্য রক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ করছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| উদ্যোগী ক্লাবসমূহ | বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, হার্থা বার্লিন, ডায়নামো ড্রেসডেন |
| ডর্টমুন্ডের পুরষ্কার কর্মসূচি | ক্লাব অ্যাপে 'Fan Mode' চালু রাখলে শপ ভাউচার ও স্বাক্ষরিত জার্সি জেতার সুযোগ |
| ভেন্যু ও গ্যালারি ক্যাপাসিটি | ওয়েস্টফালেনস্টাডিয়ন (৮২,০০০০০ দর্শক | ২৫,০০০ ধারণক্ষমতার ইয়েলো ওয়াল) |
| ফলাফল ইমপ্যাক্ট | উদ্যোগ চালুর পর থেকে ৩টি ম্যাচের ৩টিতেই জয় পেয়েছে ডর্টমুন্ড |
| বায়ার্নের রসবোধ মন্তব্য | "বায়ার্নের খেলা এতটাই রোমাঞ্চকর যে ফোন ব্যান করার প্রয়োজন হয় না।" — রুভেন কাসপার |