![]()
মাত্র ১৫ ডলার (প্রায় ১,৮৫৬ টাকা) ফি খরচ করে মাত্র এক লেনদেনেই ২৫০ কোটি ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা! বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের (Binance) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির এই চাঞ্চল্যকর বিবরণ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ (Bloomberg)। ওয়ালেট ব্যবহার সহজ করতে বানানো একটি ফিচারের সুযোগ নিয়ে সামাজিক প্রকৌশল (Social Engineering) ও ভুয়া চাকরির ফিশিং ফাঁদে ফেলে এই রেকর্ড চুরি সংঘটিত করা হয়েছে।
- 💸 মোট চুরির পরিমাণ: ২৯ অক্টোবর প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো চুরি হয়, যা ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো ডাকাতি।
- 🎯 প্রবেশপথ (ফিশিং ট্র্যাপ): বাইন্যান্সের এক প্রকৌশলীকে ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে ক্ষতিকর কোড ডাউনলোড করানো হয়।
- ⚡ ১৫ ডলারের শর্টকাট (EIP-7702): ইথেরিয়ামের বিশেষ আপগ্রেড ফিচার কাজে লাগিয়ে ওয়ালেটের “অটো-পে” বা পারমিশন হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। মাত্র ১৫ ডলার নেটওয়ার্ক ফি দিয়ে ২৫০ কোটি ডলার এক লেনদেনে সরিয়ে ফেলে।
- 🛡️ গ্রাহক তহবিলের সুরক্ষা: বাইন্যান্স নিশ্চিত করেছে যে তাদের গ্রাহকদের তহবিল নিরাপদ এবং সমস্ত ক্ষতি বাইন্যান্স নিজেই বহন করছে।
কীভাবে কাজ করেছিল ১৫ ডলারের সেই ক্ষতিকর শর্টকাট?
২০২৫ সালের মে মাসে ইথেরিয়ামে ‘EIP-7702’ নামের একটি বিশেষ আপগ্রেড আনা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্যবহারকারীদের বারবার লেনদেনে ম্যানুয়াল সই দেওয়ার ঝামেলা কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমতি দেওয়া। ২৯ অক্টোবর রাতে হ্যাকাররা বাইন্যান্সের ক্যাশ কাউন্টার হিসেবে পরিচিত “Binance 14” হট ওয়ালেটের বৈধ সই জোগাড় করে নিজেদের কোডকে অনুমোদিত করে নেয়। এই অনুমতি অর্জনে তাদের খরচ হয় মাত্র ১৫ ডলার। এর ঠিক সাড়ে তিন মিনিট পর একক লেনদেনে ২৫০ কোটি ডলার এবং পরবর্তীতে মোট ৩৬০ কোটি ডলারের তহবিল সরিয়ে ফেলে চক্রটি।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় ও নিজেকে নিরাপদে রাখার ৩ নিয়ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের প্রধান নিরাপত্তার দরজা ভেঙেছে সামান্য একটি ভুয়া চাকরির প্রস্তাব। বিশেষ করে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার এবং চাকরির সন্ধানে থাকা তরুণেরা প্রায়ই আন্তর্জাতিক অচেনা “রিক্রুটারদের” কাছ থেকে কোড বা অ্যাসেসমেন্ট ফাইল পান, যা হতে পারে ভয়াবহ সাইবার ফাঁদ। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনটি মূল নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
- ১. ফাইল বা অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা: অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোনো এক্সিকিউটেবল ফাইল, অ্যাপ বা কোড নিজের কাজের পিসি বা সংবেদনশীল ডিভাইসে চালাবেন না।
- ২. অফিসিয়াল ডোমেইন যাচাই: যেকোনো চাকরির অফার বা ইমেইল এলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অফিশিয়াল ডোমেইন ও ওয়েবসাইটের সাথে ইমেইল ঠিকানা মিলিয়ে নিশ্চিত হন।
- ৩. ওয়ালেট অনুমতিতে সাবধানতা: ক্রিপ্টো ওয়ালেটে যেকোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপকে ‘পারমিশন’ বা অটো-অ্যাপ্রুভাল দেওয়ার আগে শর্তাবলী ভালো করে পড়ে নিন।
এক নজরে বাইন্যান্স হ্যাকিং ঘটনা
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ২৯ অক্টোবর |
| মোট চুরি ও প্রথম ট্রানজেকশন | মোট চুরির পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার (এক একক ট্রানজেকশনে ২৫০ কোটি ডলার) |
| ব্যবহৃত দুর্বলতা/ফিচার | Ethereum EIP-7702 আপগ্রেড (স্মার্ট কন্ট্রাক্ট অটো-পারমিশন) |
| সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফাঁদ | প্রকৌশলীকে লক্ষ্য করে ভুয়া চাকরির অফার ও ম্যালওয়্যার কোড পাঠানো |
| তদন্তকারী সংস্থা ও অভিযুক্ত | যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই (FBI) উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের দায়ী করেছে |
