![]()
কখোনো অকৃতকার্য হয়েও জিপিএ-৫ লাভ, আবার কখনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই শীর্ষ ফলাফল অর্জনের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে চলেছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডের ফল প্রস্তুত ও প্রকাশ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার অভাবেই এই জালিয়াতি চক্র বারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।
- 📉 ২০২৬ সালের জালিয়াতি: এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষায় ১০ বিষয়েই অকৃতকার্য প্রমাণিত; চারজনের বিরুদ্ধে মামলা।
- 🚫 পূর্বের অনিয়ম: ২০২৪ সালে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ১৭ জনের জিপিএ-৫ লাভ এবং ২০২৩ সালে খোদ বোর্ড সচিবের ছেলের নম্বর জালিয়াতির ঘটনা।
- ⚙️ প্রযুক্তিগত দুর্বলতা: উত্তরপত্র স্ক্যানিং মেশিনের ত্রুটি এবং কম্পিউটার শাখায় জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে।
- ⚖️ আইনি পদক্ষেপ ও জিরো টলারেন্স: বর্তমান সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনের উদ্যোগে মামলা দায়ের এবং মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান।
ধারাবাহিক জালিয়াতি ও চট্টগ্রাম বোর্ডের চিত্র
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা নতুন নয়। ২০২৬ সালের এসএসসিতে ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষাকালে ১০টি বিষয়েই ফেল করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর আগে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই ১৭ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে তৎকালীন বোর্ড সচিব নারায়ণচন্দ্র নাথের ছেলের ১১টি বিষয়ে নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় বুয়েট ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় স্ক্যানিং মেশিন ও সফটওয়্যারের ত্রুটির সুযোগ নিয়ে নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসনের পদক্ষেপ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দায়
বর্তমান সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানিয়েছেন, বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে তিনি নিজে বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সাবেক সচিব নারায়ণচন্দ্র নাথের নিজের ছেলের ফলাফল পরিবর্তনের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধের কারণে বর্তমান প্রশাসনের ওপরও এর নৈতিক দায় এসে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ারা আলম মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এই আস্থার সংকট কাটানো সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ফলাফল জালিয়াতি তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান | চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড |
| সর্বশেষ মামলা (২০২৬) | ৩ কম্পিউটার অপারেটর ও ১ শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা |
| জালিয়াতির প্রধান মাধ্যম | উত্তরপত্র স্ক্যানিং মেশিন ও সফটওয়্যারে ত্রুটির অপব্যবহার |
| বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থান | মন্ত্রণালয়ের জিরো টলারেন্স নীতি ও কম্পিউটার শাখা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ |
