
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েলি বাহিনী গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি স্বাধীন জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জানিয়েছে। মঙ্গলবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানগুলো ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর "নজিরবিহীন মৃত্যু, আঘাত এবং মানসিক ট্রমা" সৃষ্টি করে চলেছে। এমনকি অক্টোবর ২০২৫-এর যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে শিশুদের হত্যা ও আহত করা অব্যাহত রেখেছে বলে কমিশন অভিযোগ করেছে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত হামলার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধবিরতির পর মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা অবরুদ্ধ করে রাখায় শিশুদের টিকে থাকা ও স্বাস্থ্য বিকাশে বহুমুখী ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত আট মাসে প্রতিদিনের প্রায় অব্যাহত বিমান হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি শিশুসহ এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গাজার পাশাপাশি এই তদন্ত প্রতিবেদনে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পশ্চিম তীরে শিশুদের ওপর "নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সম্মিলিত ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে" অতিরিক্ত এবং শাস্তিমূলক শক্তি প্রয়োগ করছে। মানবাধিকার সংস্থা বি'তসেলেম (B'Tselem)-এর তথ্যমতে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ২৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
কমিশন অবিলম্বে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করতে, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ কমিশন। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।