![]()
বিবৃতিতে নাইম কাশেম সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে প্রতিরোধ বাহিনীর (হিজবুল্লাহ) নিরস্ত্রীকরণকে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রস্তাব, যা সমস্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এমন কোনো পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরায়েলের হাতের পুতুলে পরিণত করবে।’
রূপরেখা চুক্তিটি নিয়ে বর্তমানে লেবাননের ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা চলছে। দেশের কিছু গণমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা একে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের জন্য সম্ভাব্য ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, বিরোধী পক্ষ এটিকে ইসরায়েলের প্রতি একমুখী ছাড় হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এমনকি চুক্তির বিরোধিতা করে রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।
গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি প্রসঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, স্থায়ীভাবে বৈরিতার অবসান এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রথম পদক্ষেপ।’ অন্যদিকে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দাবি করেন, এই চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এর সূত্র ধরে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয় এবং ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দ্রুতই মাঠপর্যায়ে তা ভেস্তে যায়।