
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর সবচেয়ে বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে সাবেক বা পুরোনো মালিকদের আবারও ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত ও আপত্তির ওপর ভিত্তি করেই এই ধারাটি বিলোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন:
"যারা জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমানতকারীদের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।"
গত ১০ই এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা 'ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ'টিকে আইনে রূপান্তর করে বর্তমান সরকার। তবে সংসদে বিলটি পাস হওয়ার ঠিক আগে এতে '১৮(ক)' নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছিল।
এই ধারার মূল বিষয়গুলো ছিল:
ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় পড়া কোনো ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে আবারও সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ বা দায় ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো ব্যক্তিকেও এই বিশেষ সুবিধা বা সুযোগ দিতে পারত।
আইনটিতে এই ধারাটি যুক্ত করার পর থেকেই অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, এই ধারার আড়ালে মূলত বিতর্কিত ও ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি গোপন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে সরকার।
চতুর্মুখী সমালোচনা ও জনআস্থার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কিত ধারাটি পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী।