
বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ফর্মে রয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো, অন্যদিকে জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইকুয়েডর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো রাউন্ড অফ ৩২-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইকুয়েডরের। দুই দলের সামনেই রয়েছে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার হাতছানি। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মেক্সিকো চাইবে নিজেদের জয়রথ ধরে রাখতে, আর ইকুয়েডর প্রস্তুত নতুন কোনো রূপকথার জন্ম দিতে।
কিক-অফ: ১ জুলাই, ২০২৬, বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ৩০ জুন, সন্ধ্যা ৭:০০ টা)
ভেন্যু: এস্তাদিও আজতেকা বা মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম (ধারণক্ষমতা: ৮৭,০০০)
রেফারি: স্লাভকো ভিনচিচ (স্লোভেনিয়া)
পরবর্তী প্রতিপক্ষ: এই ম্যাচের বিজয়ী দল ৫ জুলাই রাউন্ড অফ ১৬-তে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে।
মেক্সিকো (এল ট্রি): গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় নিখুঁত। গ্রুপ 'এ'-তে নিজেদের তিনটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকা (২-০), দক্ষিণ কোরিয়া (১-০) এবং চেক প্রজাতন্ত্রকে (৩-০) হারিয়েছে কোনো গোল হজম না করেই! ঘরের মাঠের বিপুল দর্শক এবং এখন পর্যন্ত অটুট থাকা রক্ষণভাগ তাদের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
ইকুয়েডর (লা ট্রি): অন্যদিকে ইকুয়েডরের শুরুটা কিছুটা ধীরগতির হলেও তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সাথে ড্র করার পর, নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক কামব্যাক করে তারা। অন্যতম সেরা তৃতীয়-স্থান অধিকারী দল হিসেবেই তারা নকআউটে পা রেখেছে।
পরিসংখ্যানের পাতায় ইকুয়েডরের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে মেক্সিকো।
সর্বমোট পরিসংখ্যান: এখন পর্যন্ত ২৭ বারের দেখায় মেক্সিকো জিতেছে ১৫ বার, ড্র হয়েছে ৮টি ম্যাচে এবং ইকুয়েডর জিতেছে মাত্র ৪টিতে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে: বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবারই দেখা হয়েছিল এই দুই দলের। ২০০২ সালের সেই গ্রুপ পর্বের দেখায় মেক্সিকো ২-১ গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়েছিল।
সাম্প্রতিক লড়াই: তবে সাম্প্রতিক সময়ে দু'দলের লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। সর্বশেষ তিনটি ম্যাচেই তারা ড্র করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১-১ গোলের ফ্রেন্ডলি ম্যাচ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় গোলশূন্য (০-০) ড্র।
ম্যাচের পূর্বাভাস: ঘরের মাঠে মেক্সিকো নিশ্চিতভাবেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙা ইকুয়েডরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে জার্মানির বিপক্ষে জয় ইকুয়েডরকে যে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, তাতে যেকোনো অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের গ্যালারির গর্জন আর হাই-ভোল্টেজ এই নকআউট ম্যাচটি যে ফুটবল ভক্তদের জন্য দারুণ কিছু হতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!