
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এর একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে নরওয়ে। এই জয়ের মাধ্যমে নরওয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো অর্থাৎ ‘রাউন্ড অফ ১৬’ নিশ্চিত করল, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা টানটান উত্তেজনা উপভোগ করেছেন। প্রথমার্ধে লিড নেওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত সমতা এবং শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলের এক রোমাঞ্চকর প্যাকেজ ছিল পুরো ম্যাচটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমিয়ে তোলে। তবে প্রথম ডেডলক ভাঙে ৩৯তম মিনিটে। নরওয়ের তরুণ উইঙ্গার অ্যান্টোনিও নুসা বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং একটি দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল আইভরি কোস্টের জালের উপরের কোনায় পাঠিয়ে দেন। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। নুসার এই জাদুকরী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে নরওয়ে।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে আইভরি কোস্ট। অবশেষে ৭৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা লাভ করে তারা। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালো মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে নরওয়ের একাধিক ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে এক অসাধারণ একক প্রচেষ্টায় গোল করেন। নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক আরিয়ান নেলান্দকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন নরওয়ের সুপার-স্ট্রাইকার আর্লিং হল্যান্ড। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের একটি নিখুঁত নিচু স্কয়ার পাস থেকে স্লাইড করে বল জালে জড়ান হল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে এটি হল্যান্ডের ৫ম গোল। আর এই গোলের ওপর ভর করেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
| পরিসংখ্যান | আইভরি কোস্ট | নরওয়ে |
| ফাইনাল স্কোর | ১ | ২ |
| বল দখল | ৪৭% | ৫৩% |
| মোট শট | ১৪ | ৯ |
| টার্গেটে শট | ৫ | ৩ |
| কর্নার | ১৪ | ৩ |
| পাসিং অ্যাকুরেসি | ৮৬% | ৮৯% |
পরিসংখ্যান বলছে, আইভরি কোস্ট ১৪টি শট এবং রেকর্ড ১৪টি কর্নার পেয়েও নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, নরওয়ে কম সুযোগ পেলেও সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আগামী ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্লিং হল্যান্ডের নরওয়ে। সেই ম্যাচে নরওয়ের এই আক্রমণভাগ ব্রাজিলের রক্ষণব্যূহ ভাঙতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।