
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তখন স্তব্ধতা। ম্যাচের বয়স মাত্র ৭ মিনিট। গ্যালারি ভরা ইংলিশ সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে ডিআর কঙ্গোকে লিড এনে দেন উইঙ্গার ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ডি-বক্সের ভেতর আনমার্কড থাকা সিপেঙ্গা ডান পায়ের এক নিচু শটে পরাস্ত করেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই সিপেঙ্গার প্রথম গোল, আর তাতেই যেন রূপকথার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ডিআর কঙ্গো।
শুরুতেই গোল খেয়ে খেই হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড প্রথমার্ধ জুড়েই ধুঁকেছে। ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি যেন পোস্টের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের একের পর এক আক্রমণ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। উল্টো প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ইয়োয়ান উইসার একটি শট ইংল্যান্ডের গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান দ্বিগুণ করা থেকে বঞ্চিত হয় কঙ্গো। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় টুখেলের শিষ্যরা।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ালেও গোল আসছিল না। অবশেষে ৭৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কেইন। অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ইংলিশ অধিনায়ক (১-১)।
সমতায় ফিরে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ইংল্যান্ড। এর ঠিক ১১ মিনিট পর, ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আবারও কেইন ম্যাজিক। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে এক বুলেট গতির শটে কঙ্গোর জাল কাঁপান তিনি। এই জোড়া গোলের ওপর ভর করেই ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা।
| পরিসংখ্যান | ইংল্যান্ড | ডিআর কঙ্গো |
| গোল | ২ | ১ |
| শট (লক্ষ্যে) | ১৬ (৮) | ৭ (২) |
| বল দখল | ৫৪% | ৪৬% |
| পাসিং নিখুঁততা | ৯২% | ৮৪% |
| কর্নার | ৫ | ৩ |
এই কষ্টার্জিত জয়ের পর বিশ্বকাপের শেষ ১৬ (রাউন্ড অব ১৬) নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকোর। আগামী মেক্সিকো ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে, যা ইংলিশদের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।