
নিউজ প্রোভাইডার
টানা লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদা অনুযায়ী পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝেই রাজধানীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় দেখা দিয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ পানি সংকট। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাকে করে পানি সরবরাহ এবং জেনারেটরের মাধ্যমে পাম্প সচল রাখার মতো আপদকালীন নানা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, নগরবাসীর দুর্ভোগ কিছুতেই মিটছে না। ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের মতে, কাগুজে সক্ষমতার গল্প না আউড়ে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাটি স্বীকার করে অবিলম্বে এর স্থায়ী প্রতিকারে কাজ না করলে এই সংকটের সমাধান মিলবে না।
ওয়াসার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মডস জোন-৩ এর অধীনে থাকা নীলক্ষেত ও আজিমপুর; জোন-৫ এর মহাখালী, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও; জোন-৬ এর ফকিরাপুল, মগবাজার ও রামপুরা-বনশ্রী; জোন-৯ এর নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত ও উত্তরা মডেল টাউন এবং জোন-১০ এর মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর আজিমপুর বটতলা এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে দিনে এক ঘণ্টাও পানি পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। মগবাজার মধুবাগ এলাকায় এই পানির কষ্ট চলছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। এছাড়াও কলাবাগান, পরীবাগ, শাহজাদপুর, খিলগাঁওসহ পুরো রাজধানীজুড়েই দিন-রাত মিলিয়ে পানির জন্য হাহাকার চলছে।
ওয়াসার দাবি অনুযায়ী, তাদের দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৬০ কোটি লিটার, যেখানে সাধারণ সময়ে ঢাকা শহরে পানির চাহিদা থাকে ২১০ থেকে ২৪৫ কোটি লিটার। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক তীব্র গরমের কারণে নগরে পানির চাহিদা এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে, যা এই সংকটের অন্যতম কারণ।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়াসা তাদের পাম্পগুলো পূর্ণ শক্তিতে চালাতে পারছে না। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরবরাহ লাইনে। গরম আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে নগর জীবন এখন ওষ্ঠাগত।