
নিউজ প্রোভাইডার
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই স্ট্যাটাসটির কারণে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সমালোচনা ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
শাওন তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে ইংরেজিতে ‘#জুলাইCDI’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। পোস্টটিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ বছর ধরে তিনি ফেসবুকে অনেকের আইডিতেই এই শব্দটা দেখছেন। এটি শুধু জুলাই মাসেই নয়, মানুষ সারা বছর জুড়েই ব্যবহার করছে।
এর এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, মানুষের মন খারাপ থাকলে, ভালো থাকলে, আড্ডায় কিংবা কারও ওপর রেগে গেলেও এটি ব্যবহার করা যায়। সবশেষে তিনি লেখেন, "আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI…"।
এই পোস্টের পর সমালোচনা শুরু হলে পরবর্তীতে তিনি আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে লেখেন যে, দেওয়ালে গ্রাফিতির নামে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর লেখা দেখে যাদের মুচকি হাসি পেয়েছিল, আজকে একটি ইংরেজি শব্দে তাদের শালীনতায় আঘাত লেগেছে। একই সাথে তিনি তাদের "ভন্ড সুশীল" বলেও তীব্রভাবে আখ্যা দেন।
শাওনের এই পোস্টটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
এই পোস্টের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মান নিজের ফেসবুক আইডিতে এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অবমাননা করার কারণে শাওনকে জুতার বাড়ি মারতে পারলে ১ লাখ টাকা এবং জখম করতে পারলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তাঁর এই চরম ঘোষণামূলক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে রাজনৈতিক দল জেডিপি (ZDP) মেহের আফরোজ শাওনের এই ফেসবুক পোস্টের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি তুলেছে।
শাওনের পোস্টকে কেন্দ্র করে রাকসু জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মানের এমন চরম ও হিংসাত্মক পুরস্কার ঘোষণার পর এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। সালাহ উদ্দীন আম্মানের দেওয়া সেই বিতর্কিত স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পিয়া জান্নাতুল লেখেন, "এই ধরনের অসভ্য ও বর্বর মানুষের কাছ থেকে আমরা এটাই আশা করতে পারি! আমি অবাক হচ্ছি যে আমাদের প্রতিরক্ষা বা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এখনো কেন এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।"
একই সাথে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে কীভাবে কাউকে জখম করার জন্য নগদ ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা সম্ভব, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পিয়া জান্নাতুল প্রশ্ন তোলেন—"এই ধরনের ফকিরেরা কীভাবে ২ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিতে পারে? এদের আয়ের উৎস আসলে কী?" একজন সচেতন নাগরিক ও আইন পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সমাজ বা রাজনীতিতে এমন সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকির বিরুদ্ধে পিয়া জান্নাতুলের এই সাহসী ও যৌক্তিক অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।