
বিশ্বকাপের মঞ্চে ডেবিউ বা অভিষেক হওয়া একটি পুচকে দল যেভাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কাঁপিয়ে দিল, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে থাকবে। ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, অতিরিক্ত সময়ের চরম নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
ফ্লোরিডার মিয়ামি স্টেডিয়ামে আজ যেন এক রূপকথার জন্ম দিতে চলেছিল কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠা দলটি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুই দুইবার সমতায় ফিরে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি আত্মঘাতী গোলের দুর্ভাগ্যে।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। ফল পেতেও বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের চমৎকার এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। প্রথমার্ধে এই ব্যবধান ধরে রেখেই বিরতিতে যায় স্কালোনির শিষ্যরা।
বিরতি থেকে ফিরে রূপকথার চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করে কেপ ভার্দে। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে ডেরয় দুয়ার্তে গোল করলে স্তব্ধ হয়ে যায় মিয়ামি স্টেডিয়াম। ১-১ সমতায় ফেরার পর কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক 'ভোজিনহা' একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে মেসি-মার্তিনেসদের হতাশ করতে থাকেন। তার অসামান্য বীরত্বে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯২ মিনিট) লিসান্দ্রো মার্তিনেস গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিন্তু দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩তম মিনিটে সিডনি লোপেস কাব্রাল এক অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়ালে স্টেডিয়ামে যেন ভূমিকম্প নেমে আসে। আবারও ২-২ সমতায় ফেরে ম্যাচ!
তবে ১১১তম মিনিটে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হতে হয় কেপ ভার্দেকে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর একটি জোরালো হেডার কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
মেসির রেকর্ড: এই গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ গোল করলেন লিওনেল মেসি। একই সাথে ৭ গোল নিয়ে ২০২৬ গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই এখন সবার শীর্ষে।
ভোজিনহার প্রাচীর: কেপ ভার্দের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভোজিনহা পুরো ম্যাচে ৮টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন, যার মধ্যে মেসির বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক শটও ছিল।
ইতিহাসে কেপ ভার্দে: হেরে গেলেও ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার অনন্য কীর্তি গড়ে বিদায় নিলো কেপ ভার্দে।
পরবর্তী ম্যাচ:
আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।