
রাখাইনের সংঘাত আর আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে লাখো রোহিঙ্গার ভাগ্য। তবে কি এবার সত্যিই কোনো স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে? বুধবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ফ্রন্টেই এখন জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তার সরকার। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বৈশ্বিক মানবিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ইউএন উইমেন এবং ডব্লিউএফপি'র (WFP) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ও ক্যাম্প পরিদর্শন এই সংকট মোকাবেলায় তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক এই সংকটটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। তবে দেশের অভ্যন্তরে ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি ক্যাম্পগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস কাজ করছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে গঠিত একটি ন্যাশনাল টাস্কফোর্স মানবিক সহায়তা ও প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। বাস্তুচ্যুত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্মানজনক বিদায় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার পিছু হটবে না বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।