
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হওয়া ন্যাটোর (NATO) শীর্ষ সম্মেলন যেন ঢাকা পড়ে গেছে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের কালো ছায়ায়! জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এই সম্মেলন শুরু হলেও, রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন সামরিক উত্তেজনা এবং চলমান ইউক্রেন যুদ্ধই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বুধবার (৮ জুলাই) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— তেহরানের সাথে গত মাসে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত বাতিল!
ন্যাটোর মূল এজেন্ডা ছাপিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও, তা টেকেনি। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি; বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এই পালটাপালটি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের অশনিসংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যুও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া রাতভর দেশটিতে বড় আকারের ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ন্যাটো মিত্রদের কাছে দ্রুত আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অপরদিকে, রাশিয়া দাবি করেছে তারা ইউক্রেনের শত শত ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং কিয়েভ উল্টো রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে।