
নিউজ প্রোভাইডার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা বা তাঁর দলের নেতাদের সম্মিলিতভাবে দেশে ফেরার বাস্তব কোনো প্রস্তুতি কিংবা উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে তাঁর এই ঘোষণা আপাতত বাস্তব কর্মপরিকল্পনার চেয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঠে সক্রিয় করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে।
শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক সাক্ষাৎকারের বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “আজকে একটা ইন্টারভিউয়ে আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।” বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “দেশ তো অলরেডি (ইতিমধ্যে) ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।”
শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারের আইনি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, শেখ হাসিনার পুরো বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য ও উসকানি প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। দেশের গণমাধ্যমগুলো আদালতের এই নিষেধাজ্ঞাকে সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার বর্তমান বক্তব্যগুলো মূলত সমাজে ও রাজনীতিতে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী বিষয়। তাই সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনের দৃষ্টিতেই দেখছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।