নিউজ প্রোভাইডার
দেশজুড়ে চলা অবিরাম বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমছেই না। গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসের সকাল থেকেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে আজ সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়, যার পরিমাণ ১০৭ মিলিমিটার। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১৩ মিলিমিটার। এ ছাড়া সকালের এই ৩ ঘণ্টায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বগুড়ায় ৩৫, সিলেটে ৩২, ময়মনসিংহে ২৩, নওগাঁয় ১৮ এবং রংপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, আজ দেশের উত্তরাঞ্চলে অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য যে ছয়টি বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—*রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ*।
আবহাওয়ার এই বিশেষ সতর্কবার্তায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন করে ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও প্রধান সড়কে আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
টানা বৃষ্টির এই নতুন সতর্কবার্তা প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর বর্ষার মৌসুমি বায়ু অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলেই মূলত বৃষ্টির এই নতুন স্পেল বা সতর্কবার্তা জারি করতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গতকাল (রোববার) দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল এই ঢাকাতেই, যার পরিমাণ ছিল ১৭৫ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে এই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আবার নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ সে সময় মৌসুমি বায়ু আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।