
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে বঙ্গোপসাগরে এক ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় চার জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও এক জেলে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ভেতর থেকে নিখোঁজ চার জেলের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় কোস্টগার্ড ও অন্য জেলেরা।
নিহত জেলেরা হলেন—
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে নাছির উদ্দীন (১৮)
একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. করিম (২০)
আবদুল মাবুদের ছেলে আইয়ুব মনির (২৩) এবং
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের হায়দারপাড়ার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন (৪৫)।
এছাড়া এই ঘটনায় পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন (১৮) নামে আরও এক জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী গ্রামের নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ১২ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে রওনা হন। সোমবার ভোরে সাগরে আবহাওয়া হঠাৎ বৈরী হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়।
ট্রলারের মালিক নুরুল আবছার জানান, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় সম্ভবত ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছিল। এরপরই বড় একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে কাছাকাছি থাকা অন্য মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা। এরপর নিখোঁজ ট্রলার ও বাকি জেলেদের সন্ধানে শুরু হয় তল্লাশি। সোমবার সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান মেলে। পরে রাত ৯টার দিকে ট্রলারটি টেনে ঘাটে আনা হয় এবং এর ভেতর মাছ রাখার একটি কক্ষ থেকে চার জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেও আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৭ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
কুতুবদিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ থাকা অন্য জেলেকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।